গ্রিসে একমাত্র শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের এসএসসি পরীক্ষা
প্রবাসের মাটিতে থেকেও বাংলাদেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক যে কতটা গভীর হতে পারে—তারই এক অনন্য উদাহরণ তৈরি হলো গ্রিসে। সেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা, যেখানে অংশগ্রহণ করেছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী। পরীক্ষার্থী একজন হলেও পরীক্ষা গ্রহণে অনুসরণ করা হয়েছে বাংলাদেশের শিক্ষা বোর্ডের সব নিয়ম, প্রটোকল এবং গোপনীয়তা।
গ্রিসের এথেন্সে অবস্থিত দোয়েল একাডেমি স্কুলে অধ্যয়নরত সুমাইয়া হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী এবার বাংলাদেশের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। সানজিদার বাবা আলমগীর হোসেনের বাড়ি বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায়। যদিও সানজিদার জন্ম ও বেড়ে ওঠা গ্রিসেই, তবুও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তার এই সংযোগ এক অন্যরকম আবেগের গল্প তুলে ধরেছে।
পরীক্ষা আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ থেকে কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয় গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে। নির্ধারিত সময়ে দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র খোলা, পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র সংরক্ষণ এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে।
গ্রিসে বাংলাদেশের দূতাবাসের লেবার সচিব মারজিয়া সুলতানা পরীক্ষার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন। দুতাবাস থেকে জানানো হয়,প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যেন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়ে—সেই লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দোয়েল একাডেমী সভাপতি ইসমাইল হোসেন রনি ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর দেওয়ান বলেন :-
“শিক্ষার্থী একজন হলেও তার ভবিষ্যৎ আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের মতোই একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুষ্ঠু পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে।”
দূরদেশে থেকেও মাতৃভাষা ও দেশের শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা যে কতটা গভীর হতে পারে, সানজিদা হোসেন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। গ্রিসের শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি বাংলাদেশের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে প্রমাণ করেছে—প্রবাসে জন্ম হলেও হৃদয়ের টান রয়ে গেছে নিজের শিকড়ের সঙ্গে।
প্রবাসে একজন শিক্ষার্থীর জন্য এমন আয়োজন নিঃসন্দেহে এক বিরল ঘটনা। এটি শুধু একটি পরীক্ষা নয়; বরং এটি প্রবাসী নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ভাষার অটুট বন্ধনের প্রতীক।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে—পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের সন্তানদের হৃদয়ে দেশ ও মাতৃভাষার টান কখনো ম্লান হয় না।
মতামত দিন